ঢাকা সোমবার, ১৬ই মে ২০২২, ৩রা জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯


বৃদ্ধ বাবাকে ফেলে পালালেন সন্তান, বিপাকে হাসপাতাল


প্রকাশিত:
২৯ মার্চ ২০২০ ১০:০২

আপডেট:
২৯ মার্চ ২০২০ ১০:১৩

সংগৃহীত

মিথ্যা পরিচয় ও ভুল ঠিকানা দিয়ে গুরুতর অসুস্থ এক বৃদ্ধকে হাসপাতালে ফেলে পালিয়েছেন সন্তান। ঘটনা কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এ ঘটনায় বিপাকে পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

গত চার দিন ধরে হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছেন ওই বৃদ্ধ। হাসপাতাল ও বাজিতপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ নাম-ঠিকানা অনুযায়ী চিকিৎসাধীন ওই বৃদ্ধ উপজেলার সরারচর ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের মৃত পরশ চন্দ্র সাহার ছেলে প্রদীপ সাহা। বয়স দেয়া হয়েছে ৫৮ বছর। কিন্তু প্রকৃত অর্থে তার বয়স ৭০ বছরের বেশি হবে।

উপায়োন্তর না পেয়ে শনিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি থানা পুলিশকে জানায়। এর পর উপপরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলমকে হাসপাতালের রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ নাম-ঠিকানার সূত্র ধরে স্বজনদের খুঁজে বের করার জন্য পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে গিয়ে এই ঠিকানার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ভুল ঠিকানা দিয়ে স্বজনরা হয়তো পালিয়েছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মুশফিকুর রহমান জানান, বিপ্লব সাহা পরিচয়ে একজন পাঁচ দিন আগে ওই বৃদ্ধকে মুমূর্ষু অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। তিনি রেজিস্ট্রারে ইংরেজিতে তার নামও বিপ্লব সাহা লিখেছেন এবং তার মোবাইল নম্বর লিখতে বললে তা না লিখেই সুযোগ বুঝে বৃদ্ধকে ফেলে চম্পট দেন। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি নিজের নামসহ রোগীর ভুয়া নাম-ঠিকানা দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, সঙ্গে আসা লোকটি যে রোগীর নিকটাত্মীয় ছিলেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এ অবস্থায় মুমূর্ষু ওই রোগীকে ২৫০ শয্যার কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তরের কথা বললেও তিনি রাজি না হয়ে রেজিস্ট্রারে অঙ্গীকারপত্র দেন, রোগী মারা গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জালাল উদ্দিন আহমেদ জানান, এ বৃদ্ধকে নিয়ে তারা টেনশনে আছেন। তিনি এ সময় আক্ষেপ করে বলেন, কোনো বয়স্ক লোকের প্রতি পরিবার ও স্বজনদের এমন অমানবিক আচরণ কখনও দেখিনি।

জানা গেছে, ওই বৃদ্ধ প্রকৃতপক্ষে স্ট্রোকের রোগী। বর্তমানে তিনি শিশু ওয়ার্ডের একটি বেডে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন। তার পিঠ ও পেছনের দিকে ক্ষত হয়ে গেছে। সাধারণত এ ধরনের সমস্যার রোগীদের দীর্ঘ সময় শুয়ে থাকার কারণে পিঠে এমন অবস্থা হয়ে থাকে।

ওই বৃদ্ধের কথাবার্তাও অসংলগ্ন। নাম বলতে না পারলেও বাড়ি কোথায় জানতে চাইলে তিনি একবার কামালপুর আরেকবার সচারচর বলছেন।

উপজেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান, ওই বৃদ্ধের উপযুক্ত চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র সরবরাহ করার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে ইতিমধ্যে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top