ঢাকা মঙ্গলবার, ২৪শে নভেম্বর ২০২০, ১০ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭


কল্যাণময় জীবনের দিকে দেহ-মনকে জাগানোর ইয়োগা প্রশিক্ষক রুমা চৌধুরী


প্রকাশিত:
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২০:৪১

আপডেট:
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২০:৫৮

রুমা চৌধুরী। শাস্ত্রীয় ইয়োগা প্রশিক্ষক। আদি শেকড় বাংলাদেশে। জন্ম চট্টগ্রামে, বেড়ে উঠা মার্কিন মুল্লুকে। তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রাচীণা ইয়োগা সেন্টার। দেশে ও বিদেশে ইয়োগা প্রশিক্ষণ দেন। আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে তার ঢাকায় ‘যোগ কর্মশালা’য় আসার কথা রয়েছে। একজন যোগ সাধিকা হিসেবে তার সাথে অনলাইনে এ ইন্টারভিউ নেয়া হয় :

রুমা চৌধুরীর কাছে প্রথমেই জানতে চাওয়া হয়, আপনি এ কাজে আগ্রহী হলেন কীভাবে?উত্তরে তিনি জানান, খুব ছোটবেলা থেকে তিনি প্রকৃতির প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। তার মনে প্রকৃতি ও জীবনোর রহস্যময়কা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন জাগতো। ভোগবাদী আমেরিকার সমাজেও তিনি বড়ো হয়ে দেখেছেন মানুষের কাছে প্রাচুর্য়্য থাকাসত্ত্বেও তারা অবসাদে ভোগেন। বিকারগ্রস্ত হোন।আত্মধ্বংসী হোন। এসব বিষয় তাকে ভাবিয়ে তুলতো। ফলে তিনি সিদ্ধান্ত নেন মানুষের ভালোবাসায় বিলীন হতে।মানুষের দেহ-মনের যে পরমাত্মা এই সত্ত্বাকে নাধনার মাধ্যমে জাগিয়ে তোলে সুন্দর কল্যাণময় জীবনের দিকে নিয়ে যেতে।আর সে জন্যই যোগ সাধনা শুরু করেন।

শুরুটা কীভাবে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ২০১৫ সালে ‘ঈশা ফাউন্ডেশন’ থেকে শিক্ষক হিসেবে প্রশিক্ষিত হয়েছি। প্রশিক্ষিত হতে প্রায় ৬ মাসের মত আমাদের নিবিড় অনুশীলনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ ঘন্টার ক্লাস থাকতো আমাদের।ইয়োগা’ সেন্টারের সাথে সহযোগী হিসেবেও আমরা কাজ করি। ‘ঈশা ইয়োগা’ সেন্টারকে বলা হয় – ইয়োগার জন্য হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়।

এই ঈশা যোগ সেন্টারের সদগুরুর নাম কি বা তার দ্বারাই কেন প্রভাবিত হলেন ? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সদগুরুর নাম জাগ্গি বাসুদেব।তিনি ঈশা যোগ কেন্দ্রটি ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত করেন। এর আগে ইশা ফাউন্ডেশনে প্রতিষ্ঠিত হয়।ভারতের কোয়েম্বাটুরের কাছে এ প্রতিষ্ঠান। জাগ্গি বাসুদেব একজন বিশ্বখ্যাত একজন ভারতীয় যোগী, অতীন্দ্রিযবাদী এবং লেখক। তিনি ইশা ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি জাতিসংঘের সদর দপ্তর, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম, অস্ট্রেলিয়ান লিডারশিপ রিট্রিট, ভারতীয় অর্থনৈতিক সামিট এবং টেড এ একজন প্রধান স্পিকার ছিলেন। তিনি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি, স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি, ইয়েল ইউনিভার্সিটি, হোয়ার্টন ইউনিভার্সিটি, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে বক্তৃতা করেছেন। ২০১৭ সালে ভারত সরকার পদ্মবিভূষণ বেসামরিক পুরস্কার প্রদান করে।

রুমা চৌধুরী জানান, আমি যতোটুকু জেনেছি সদগুরু ১৯৮২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ভারতের চামুণ্ডী পাহাড়ে উঠেন এবং একটি শিলাতে বসেছিলেন, যেখানে তিনি আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলেন। তার অভিজ্ঞতার বর্ণনা শুনে আমি মুগ্ধ হই।

তিনি বলেন, আমরা যে শাস্ত্রীয় যোগ নিবেদন বা অফার করি, এটা শুধুই মাত্র আমাদের মতো কিছু মানুষের কাছে এভেইলেভেল। এটা সিক্রেট এবং সেক্রেট। বিভিন্ন ট্রিটমেন্ট মডিউল আমরা অফার করে থাকি। এবং ব্যক্তি বিশেষে তা টেইলর করি। যেমন - ডায়াবেটিক, হার্ট ডিজিজ, ক্যান্সার, ডিপ্রেশন, এন্কসাইটি, স্ট্রেস মেনেজমেন্ট, এলার্জি, প্রি প্রেগন্যান্সি, পোস্ট প্রেগন্যান্সি, বাচ্চাদের ওয়ার্কশপ থেকে শুরু করে সিনিয়র সিটিজেন ইত্যাদির সেবা দিয়ে থাকি।

সেই সদগুরুর অভিজ্ঞতার বর্ণনা কেমন সেটি জানতে ঈশা ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট ও উইকিপিডিয়া ভিজিট করে পাওয়া যায় সদগুরু তার অভিজ্ঞতার বর্ণনা :

‘‘ আমার জীবনের সেই মুহুর্ত পর্যন্ত আমি সবসময় নিজের কথা, অন্যের কথা ও অন্য কিছুর ব্যাপারে ভাবতাম । কিন্তু তখন প্রথমবারের মতো আমি জানতাম না যে কোনটা আমি আর কোনটা নই। একদিন আমি সব জায়গায় নিজেকে অনুভব করলাম। যে শিলায় আমি বসে ছিলাম,যে বাতাসে আমি শ্বাস নিচ্ছিলাম, আমার চারপাশে বায়ুমণ্ডল সবকিছুতেই আমি ছড়িয়ে পড়েছিলাম । যা হয়ত কৌতুক বা পাগলামির মত শোনাচ্ছে। আমার মনে হয় এটি দশ থেকে পনের মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী ছিল, কিন্তু যখন আমার স্বাভাবিক চেতনা ফিরে আসে তখন প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা আমি সেখানে বসে ছিলাম। সম্পূর্ণ সচেতন ছিলাম, চোখ খোলা ছিল। কিন্তু কিছু সময় পর সব ঠিক হয়ে গেল।’’

রুমা চৌধুরী বলেন, মানুষের জীবনে আনন্দ-বেদনা থাকবেই। কিন্তু একমাত্র যোগ সাধনার ভেতর দিয়েই নির্বাণ লাভ করা যায়। মানসিক স্তরকে এমন একটা জায়গায় উন্নীত করা যায় যেখানে, পৌঁছালে জীবনকে আরোও ব্যাপ্তভাবে দেখা যায়। সবকিছুর মধ্যেই প্রাণ আছে এমন ধারণায় মানুষ মানবিক হয়ে ওঠে। সুন্দর মনে হয় জীবন। একই সঙ্গে যোগ সাধনায় বিভিন্ন আসন করার ফলে শরীরও হয় জরামুক্ত।

রুমা চৌধুরী জানান, বাংলাদেশে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার প্রতিষ্ঠান ‘প্রাচীণা কাজ করে যাচ্ছে।বিশুদ্ধ শাস্ত্রীয় ইয়োগা এবং স্বাস্থকর জীবন বিষয়ক প্রশিক্ষণ-পরামর্শ দিয়ে থাকেন। স্কুল-কলেজ,- সরকারী- বেসরকারী, কর্পোরেট-প্রতিষ্ঠান-ব্যক্তিগত পর্যায়ে কাজ যাচ্ছেন। মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি এ ও জানান, ঈশা সার্টিফাইড- বাংলাদেশের একমাত্র ঈশা শাস্ত্রীয় যোগ শিক্ষক তিনি।
তিনি জানান, জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে তার বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করছেন। সেসময় তিনি এলে একটি যোগ কর্মশালা ঢাকাতে করবেন।এ ব্যাপারে প্রস্ত্তুতি চলছে।আগামী সপ্তাহের ভেতরেই তার প্রতিষ্ঠান ‘প্রাচীণা’ কর্মশালার ভেন্যু, মেয়াদকাল, রেজিস্ট্রেশন,সবকিছুর ঘোষণা দিবে। যদি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে।

রুমা চৌধুরীর কাছে শেষে জানতে চাওয়া হয়,এক কথায় বলুন জীবনের উদ্দেশ্য কী ? জবাবে তিনি বলেন, জীবনের কদর্য দিককে বোঝা ও এড়িয়ে গিয়ে আলো থেকে আলোতর জীবনে মিশে সুখ ও সুন্দরের সন্ধান করা। যোগসাধনাতেই সব কদর্যতার মৃত্যু ঘটে। কদর্যতা কখনো বা বেশিদিন লুকিয়ে রাখা যায় না।তাই সুন্দরের পরিব্রাজকই তিনি হতে চান এবং এ পথের কথাই মানুষকে বারবার বলতে চান।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top