ঢাকা রবিবার, ১৬ই মে ২০২১, ৩রা জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

মৃত্যুর আগে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের ফেসবুক পোস্ট


প্রকাশিত:
৭ এপ্রিল ২০২০ ০৯:২০

আপডেট:
৭ এপ্রিল ২০২০ ১০:২৮

করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়া মানুষকে সচেতন করছেন পুলিশের সদস্যরা, ডানে সুমন চাকমা। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্র সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে আটটায় মারা গেছেন। তিনি মৃত্যুর আগে করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট করেছেন। গত ২৬ মার্চ ফেসবুকে পোস্টটি করেন তিনি।

তিনি ফেসবুকে লেখেন, ‘আমার করোনো হয়নি অথচ পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে করোনার জন্যই আমাকে মারা যেতে হবে।’

মৃত্যুর দুদিন আগে তিনি তার বাবাকে বলেন, ‘বাবা আমাদের আত্মীয়স্বজন চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার বানাব।’

ওই ছাত্রের নাম সুমন চাকমা। তার বাড়ি খাগড়াছড়ির সদর উপজেলায়। তার বাবা সুপেন চাকমা একজন কৃষক। সুমনের ছোট এক বোন রয়েছে। সুপেন চাকমা বলেন, ২০১৮ সালে সুমনের অসুস্থতা দেখা দেয়। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি হয় সে। চিকিৎসকেরা জানান, সুমনের ফুসফুসে ক্যানসার হয়েছে।

সুপেন চাকমা বলেন, বক্ষব্যাধি হাসপাতালে তিন মাস ছিল। পরে বিভিন্ন মানুষের সহায়তায় ওকে আমি ইন্ডিয়া নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসকেরা বলেন, ক্যানসার না, ফুসফুসে ছোট একটা টিউমার হয়েছে। থেরাপি দিয়ে দেয়। পরে দেশে ফিরে আসি। পরে আবারও চেক আপের জন্য ভারতে যায় সুমন। সেখানেও বলল, রোগ নিয়ন্ত্রণে আছে। ২০১৯ সালের জুনে ফিরে আসে। পরে সুস্থ বোধ করায় সে বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়, আবার পড়াশোনা শুরু করে। কিছুদিন ভালোই ছিল সুমন। এ বছরের শুরুর দিকে সুমনের অসুখটা আবারও বেড়ে যায়। চীন থেকে শুরু হওয়া করোনাভাইরাস ততদিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। মার্চ মাসের শুরুতে বাংলাদেশেও তার সংক্রমণ শুরু হয়। ওদিকে সুমনেরও তখন চিকিৎসা দরকার। কিন্তু বাবার অভিযোগ, কোথাও চিকিৎসা পাননি সুমন। দেশের বিভিন্ন নামকরা সরকারি হাসপাতালের নাম উল্লেখ করে এই সন্তানহারা বাবা বলেন, ‘কোনো জায়গায় আমি স্থান পাইনি।’ আগের রিপোর্টগুলোর কথা জানালেও কোনো হাসপাতালে তার জায়গা হয়নি।

কোথাও ভর্তি হতে না পেরে সুমন গত ২৬ মার্চ ফেসবুকে অসহায়ত্বের কথা উল্লেখ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন।

সুপেন চাকমা বলেন, ‘আমি ভাবলাম, ঢাকায় থাকলে তো বিনা চিকিৎসায় মরে যেতে হবে। তাহলে ঢাকা থেকে বাড়িতে মরে গেলেও ভালো হবে। পরে বাড়ি নিয়ে যাই। এ অবস্থায় ওষুধ শেষ হয়ে যায়। যান চলাচল বন্ধ থাকায় তিনি ওষুধ আনতে যেতে পারেননি। ওষুধ আনার আগেই সুমন আমাদের ছেড়ে চলে গেলে।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top