ঢাকা সোমবার, ২১শে জুন ২০২১, ৮ই আষাঢ় ১৪২৮

ডাকসুর বর্ষপূর্তিতে শিক্ষার্থীদের হতাশা


প্রকাশিত:
১১ মার্চ ২০২০ ২৩:২২

আপডেট:
২১ জুন ২০২১ ০৬:০৭

সংগৃহীত

আজ বুধবার (১১ মার্চ) ডাকসু নির্বাচনের বর্ষপূর্তি। দীর্ঘ ২৮ বছর প্রতীক্ষার পর ২০১৯ সালের ১১ মার্চ সচল হয়েছিল একসময় দেশের ‘সেকেন্ড পার্লামেন্ট’ খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। নির্বাচনের আগে থেকেই ডাকসুকে ঘিরে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ সবার মধ্যে যে প্রত্যাশা দেখা দিয়েছিল, তার ১০ ভাগও পূরণ করতে পারেনি এ ডাকসু। শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে প্রকট দ্বন্দ্ব ও দূরত্বের কারণে কোনো সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা দূরে থাক, অভিষেকই করতে পারেনি সংসদ।

দীর্ঘ হতাশা ও ব্যর্থতার বিষয়টি তুলে ধরে শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকটের সমাধান, গণরুম-গেস্টরুম প্রথা উচ্ছেদ, অছাত্র-বহিরাগত বিতাড়ন, সান্ধ্যকালীন বাণিজ্যিক কোর্স বন্ধ, গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো, পরিবহন সমস্যা দূর করা, ক্যান্টিনে খাবারের মান বাড়ানো, সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল, ক্যাম্পাসে বাইরের যান চলাচল বন্ধসহ নির্বাচনী ইশতেহারের বড় অঙ্গীকারগুলোর বিষয়ে ডাকসু কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি। অভিযোগ, ডাকসুর শীর্ষ দুই নেতা ভিপি নুরুল হক নুর ও জিএস গোলাম রাব্বানীর দূরত্ব ও দ্বন্দ্ব ডাকসুর কার্যক্রমে শুরু থেকেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ডাকসুতে সংগঠনগতভাবে ছাত্রলীগের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। কিন্তু কয়েকজন ডাকসু নেতা ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু কাজ করলেও নির্বাচনী ইশতেহারের মূল প্রতিশ্রুতি পূরণের ক্ষেত্রে তাদের সামগ্রিক কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। বরং প্রভাব বিস্তারের দ্বন্দ্বে নির্বাচিত ডাকসু নেতারাও নতুন নতুন সমস্যা সৃষ্টি করে চলেছেন। ডাকসু ভবনে হামলার ঘটনা এরই চূড়ান্ত উদাহরণ।

হিসাব অনুযায়ী, ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক শাকিল আহমেদ তহবিল থেকে ১৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা, সাহিত্য সম্পাদক মাজহারুল কবির ১৩ লাখ ৭১ হাজার ৮৩৪ টাকা, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক শাহরিমা তানজিন অর্ণি ৬ লাখ ৭১ হাজার ৯০০ টাকা, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী ৭ লাখ ৮২ হাজার ১২০ টাকা, সংস্কৃতি সম্পাদক আসিফ তালুকদার ১২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আরিফ ইবনে আলী ৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকা, সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ছাত্র পরিবহন সম্পাদক শামস-ঈ-নোমান ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা তুলেছেন।

ডাকসুর সদস্যদের মধ্যে তহবিল থেকে তানভীর হাসান ৯০ হাজার টাকা, রাকিবুল হাসান ৬১ হাজার ৭০০ টাকা, রাইসা নাসের ৭৪ হাজার ৫০ টাকা, রকিবুল ইসলাম ২ লাখ ২০ হাজার টাকা, মুহা. মাহমুদুল হাসান ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা, রফিকুল ইসলাম ৩০ হাজার টাকা, ফরিদা পারভীন ৬১ হাজার ৫০০ টাকা, সাইফুল ইসলাম এক লাখ টাকা এবং যোশীয় সাংমা ৪০ হাজার টাকা তুলেছেন। প্রসঙ্গত, ডাকসু সদস্যদের জন্য আলাদা কোনো বাজেট নেই- এই অর্থ তারা সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর তহবিল থেকে তুলেছেন।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top