ঢাকা মঙ্গলবার, ২৪শে নভেম্বর ২০২০, ১১ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭

সোনালী আঁশ কি এখন রূপকথার গল্প হয়ে থাকবে!

বিন ইয়ামীন মোল্লা


প্রকাশিত:
৫ জুলাই ২০২০ ১৮:০৩

আপডেট:
৫ জুলাই ২০২০ ১৮:১১

বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশন’র (বিজেএমসি) ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করে দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলসমূহ নিয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। বৈঠকে বলা হয়, এসব পাটকল বন্ধ থাকলে যে পরিমাণ ক্ষতি হয় চালু থাকলে তার চেয়ে বেশি পরিমাণ ক্ষতি হয়, ‘কাজেই এসব পাটকলের সঙ্গে জড়িত শ্রমিক ভাইদের জীবন-জীবিকার নিশ্চয়তার জন্য সরকার তাঁদেরকে ২০১৫ সালের জাতীয় মজুরি কাঠামো অনুযায়ী সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

মুখ্য সচিব ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো গত ৪৮ বছরের মধ্যে শুধু চার বছর লাভের মুখ দেখেছে এবং ৪৪ বছর ধরে অব্যাহতভাবে মোট ১০ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে।

ড. কায়কাউস বলেন, ‘২০১৫ সালের সর্বশেষ মজুরি কাঠামো অনুযায়ী পাটকল সমূহের ২৫ হাজার শ্রমিককে তাদের অবসরকালীন সুবিধাসহ পাওনা পরিশোধ বাবদ সরকারের ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।’

সাংবাদিকদের এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে মুখ্য সচিব বলেন, ‘এখানে কাউকে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে না এবং পরবর্তীতে এ কারখানাগুলো পুনরায় চালু হলে নিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমান শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

# আমরা জানি এ পাটকল বন্ধ হলে আর কখনো চালু হবে না। শ্রমিকদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এই করোনাকালে তাদের রুটি রুজির শেষ আশ্রয় টুকু কেড়ে নেয়া হচ্ছে। অথচ সরকারের উল্টো কর্তব্য ছিলো এই মহামারীতে শ্রমিকদের বেতন ভাতা চালু রাখা।

#এ দেশের পাট শিল্প এখন দ্রুত ধ্বংস হয়ে যাবে অথচ একসময়ের উল্লেখযোগ্য অর্থকরী ফসল ছিলো পাট। সরকারের কালোবাজারি সিন্ডিকেটকারীরা এ ক্ষাতটি চুশে চুশে খেয়ে ফেললো।

#আন্তর্জাতিক চক্রান্তের প্রেসক্রিপশনে আর দেশীয় সিন্ডিকেটকে তুষ্ট করতে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল গুলো বন্ধ করা হলো।

#অথচ গত ছয় বছরে প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কেন্দ্র ভাড়া দিয়েছে সরকার। এসব কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতা তো দূরে থাক, ৩০ শতাংশও চালানো সম্ভব হয়নি।

#এগুলো বন্ধ হয় না কারণ এগুলো যারা পি পি পি তে চালায় মানে সরকারের সাথে আংশিক মালিকানা যাদের তারা সরকারের বিভিন্ন জনের আত্মীয় স্বজন, ভাই ব্রাদার, শালা,ভাতিজা ইত্যাদি। এই সকল বড় বড় বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারের দলের লোকজন কমিশন খেয়ে বেঁচে থাকে। এগুলো বন্ধ হলে নেতাকর্মী না খেয়ে মারা পরবে।

#তবে এখন সরকারি পাটকল বন্ধ হলেও ব্যাক্তি মালিকানাধীন পাটকল গুলো দমদমিয়ে চলবে। সিন্ডিকেটের কারসাজিতে হয়রানি আর ক্ষতির শিকার হবে এদেশের কৃষকেরা আর এদেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির মেরুদণ্ড।

শুধু কিছু দৃশ্যমান ফ্লাই ওভার আর বড় বড় ব্রিজ মানেই উন্নয়ন নয় উন্নয়নের মেরুদণ্ড কৃষি ভেঙ্গে পড়লে এই সব লোক দেখানো ফাঁপা অবকাঠামো তুরুপের তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পরবে।

লিখেছেনঃ বিন ইয়ামীন মোল্লা, সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top